Reading education tips

সত্যবাদিতা রচনা

সত্যবাদিতা রচনা

 

ভূমিকা – সত্যবাদিতা রচনা মানব চরিত্রের প্রধান গুণ । সচ্চরিত্র হতে হলে প্রথমেই তাকে সত্যবাদী হতে হবে । কেবল মিথ্যা কথা না বললেই তাকে সত্যবাদী বলা যায় না । কতকগুলো গুণের সমষ্টি হচ্ছে সত্যবাদিতা । এর মধ্যে আছে – সত্য গোপন না করা , কর্তবা পালন করা , ন্যায় কাজকে উৎসাহ দান ও অন্যায়কে প্রতিরোধ করা , অসৎ চিন্তা না করা ইত্যাদি ।

সত্যবাদিতা শিক্ষাসত্যবাদিতা শিক্ষার আসল সময় হচ্ছে বাল্যকাল । এজন্য মাতাপিতা , গুরুজন ও শিক্ষকদের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি । এদের প্রভাবেই শিশু সত্যবলা বা মিথ্যাচার শেখে । শিশুরা ভালোকাজ করলে তাকে প্রশংসা করা উচিত । তারা কখনও খারাপ কাজ করলে তাদের মারধোর করা বা বকাবকি করা উচিত নয় । তাহলে তারা অন্যায় করে তা স্বীকার করতে চাইবে না । ফলে তারা মিথ্যাকথা বলতে শিখে যাবে । তাদের বুঝিয়ে দেওয়া উচিত কোনটা ভালকাজ আর কোনটা খারাপকাজ এবং খারাপকাজ করলে কেউ তাদের ভালোবাসবে না । এর ফলে তারা সত্যবাদী হতে শিখবে ।

মত্যবাদিতার সুফল — সমাজজীবনে সত্যবাদী ব্যক্তির কথা ও কাজে কোনো পার্থক্য নেই । তাই তারপ্রতি সমাজের ছোট বড় সবাই সহজেই আকৃষ্ট হয় এবং সকলে তাকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে । এটি মানুষের চরিত্রের অন্যান্য গুণকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে । এর ফলে অন্যান্য সব দোষ – ত্রুটি আস্তে আস্তে দূরহয়ে যায় । সত্যবাদী ব্যক্তির অসাধারণ মনের জোর থাকে কিন্তু মিথ্যাবাদী ব্যক্তির অন্তর থাকে দুর্বল এবং ভীরু । সত্যবাদী গরিব ব্যক্তির মনের জোর ও সৎসাহস মিথ্যাবাদী ধনীব্যক্তির চাইতে অনেক বেশি । সত্যের জয় ও মিথ্যার বিনাশ এক সময় হবেই । ‘ সততা দিয়ে শত্রুর মন ও জয় করা যায় ।

Also my link..

সত্যবাদিতা রচনা

আজীবন সত্যের সাধক মহানবি হযরত মুহম্মদ ( স . ) – এর জীবনই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ । যে সমস্ত লোক তাঁর প্রাণের শত্রুছিল তারা ও তাঁর সততার জন্য তাঁকে শ্রদ্ধা করত । তারা হযরত মুহম্মদ ( স ) -এরকাছে তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র আমানত রাখত । তাঁর বিশ্বস্ততার জন্য শত্রু – মিত্র সবাই তাঁকে ‘ আল – আমিন ‘ বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেছিলো । সত্যবাদী ব্যক্তির হৃদয় নির্ভীক ও পবিত্র থাকে । তার মনেথাকে অসীম সাহস । একমাত্র সত্যবাদিতার বলেই সমস্ত খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা যায় । মিথ্যা কথা বলার কুফল – মিথ্যা বলা মহাপাপ ।

মিথ্যাবাদী ব্যক্তি সবার ঘৃণার পাত্র । প্রতারণা , শঠতা , জাল জুয়াচুরি এবং অন্যান্য পাপ কাজও মিথ্যা থেকেই সৃষ্টি হয় । এজন্য মিথ্যাকে সমস্ত পাপ কাজের মা বলা হয় । মিথ্যার সাথে পাপের সম্পর্ক এবং সত্যের সাথে পুণ্যের । মিথ্যাবাদী হয়তো সাময়িকভাবে জয়লাভ করতে পারে , লোকে তাকে শ্রদ্ধাও করতে পারে । কিন্তু একদিন তার আসল পরিচয় প্রকাশ পেলে সে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই ।

পায় না । আমরা মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের গল্প জানি । সে মিথ্যাকথা বলার জন্য পরিণামে বাঘের থাবায় প্রাণ হারিয়েছিল । তাই মিথ্যাকে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করতে হবে ।

উপসংহার – সত্যবাদিতা ক্রমাগত বলার অভ্যাস হয়ে গেলে শেষে ইচ্ছা করলেও আর মিথ্যাকথা বলা সহজ হয় না । ‘ সত্য অমূল্য ধন এ কথাটি মনে রেখে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে সত্যকে একমাত্র অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে ।

সত্যে মুক্তি মিথ্যায় ধ্বংস

 ভূমিকা— সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব , সততার চিরজ্যোতির্ময় মুকুটধারী সম্রাট , মহানবি হযরত মুহাম্মাদ ( স . ) – এর একটি চিরন্তন বাণী , ‘ সত্য মানুষকে মুক্তি দেয় আর মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে ।

তিনি আরো বলেছেন ‘ সত্য পুণ্যের পথে নিয়ে যায় । ‘ নানা মানবিক গুণ দিয়ে আল্লাহ মানুষকে আশরাফুল মাখলুক্বাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন । শিক্ষা অনুশীলন ও সাধনার মাধ্যমে মানুষ এসব গুণ অর্জন করে ‘ মানুষ ‘ নামের প্রাণী থেকে প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠতে পারে । সততা চরিত্রের এমন একটি অন্যতম সদগুণ , যাকে বলা চলে যাবতীয় সদগুণের অধিকারী হতে পারে । আর সততার সেপানে করতে সমর্থ হলে মানুষ আদর্শ চরিত্রের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলোও অর্জন করতে সমর্থ হয় ।এক এক করে সোপানশ্রেণি পার হয়ে । উন্নত ও মহান জীবনের এক ক্যোতির্ময় মিনারের শীর্ষে আরোহণ করতে পারে ।

মহানবির আদর্শ – সচ্চরিত্র গঠনে এবং সৎ জীবনাদর্শ গ্রহণে বিশ্ব মানবতার নিট অন্যতম উদাহরণ সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযত মুহূ ( স . ) । ছোটবেলা থেকেই তিনি সততার জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠেন । কিশোর বয়সেই তিনি জনগণের কাছ থেকে ‘ আল – আমীয় বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত হন ।

এমনকি শত্রুরাও তাঁর সততার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করতো না । চরিত্রের এ গুণ দিয়ে । জয় করে নিয়েছিলেন সারা বিশ্ব । তাই তাঁর মাধ্যমে ইসলাম বিশ্বে পেয়েছে ‘ সত্য ধর্মের মর্যাদা । যাঁরা ঈমান এনেছেন তাঁরা , বিশ্বাস করেন , মুহাম্মাদ ( স . ) কখনো মিথ্যা বলেন না । মহানবির জীবনে সত্যানুশীলনের হাজারো উদাহরণ রয়েছে । একবার মহানবি ( স . ) এর কাছে একজন লোক এসে বললো , হে নবি ( স . ) আমি চুরিকরি , মিথ্যা কথাবলি , আরো অনেক খারাপ করি । তবে আমি ভাল হতেচাই , কিন্তু এতগুলো খারাপ কাজ একসাথে ত্যাগকরা আমার পক্ষে সম্ভব নয় । আপনি আমাকে এ খারাপ কাজত্যাগ করার পরামর্শ দিন ।

মহানবি ( স . ) বললেন , মিথ্যা বলবে না । লোকটি বলল , এতো খুব সহজ কাজ , কিন্তু পরে দেখাগেল তারপক্ষে অন্য কোনো খারাপ কাজ করাই সম্ভব হচ্ছে না । কারণ খারাপ কাজকরে সত্য বললে লোকের কাছে ধিক্কার পেতে হবে , শাস্তি পেতে হবে । এভাবে সে মিথ্যাত্যাগ করে সত্যাশ্রয়ী হওয়ায় যাবতীয় কুকর্ম থেকে নিজের চরিত্রকে মুক্তকরে নিতে সম্মত হন।

সত্য – মিথ্যার বৈশিষ্ট্য — সত্য হচ্ছে আলো আর মিথ্যা অন্ধকার । সততা জীবনকে আলোতি করে । সত্যাশ্রয়ী মানুষ আল্লাহর প্রিয় বান্দা । পরকালে তার জন্য রয়েছে বেহেশতে অতি উত্তম স্থান । ইংরেজিতেও একটি কথা আছে Honesty is the best ploicy . সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা । কি ব্যক্তিজীবন , কি ছাত্রজীবন , কি কর্মজীবন অথবা জাতীয় জীবন , সর্বক্ষেত্রেই সততা অবলম্বন বাহ্যিক ক্ষেত্রে যেমন সাফল্য লাভের উপায় , নৈতিক ক্ষেত্রেও তেমনি মুক্তির মন্ত্র হিসেবে কাজ করে । অপর দিকে মিথ্যা জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে ।

মিথ্যা ক্লেদ , গ্লানি , কলঙ্ক ইত্যাদির জন্মদেয় । মিথ্যা সকল পাপের প্রসূতি । পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মেই ‘ মিথ্যা’কে মহাপাপ হিসাবে গণ্যকরা হয়েছে । মিথ্যাবাদী , মিথ্যাচারী ব্যক্তির পরকালে অশেষ লাঞ্ছনা ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি নেই । মিথ্যাশ্রয়ী ব্যক্তির জীবনে পরিণামে দুঃখ ও ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে । মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না । এছাড়াও মিথ্যাচারীর জন্য পরকালে রয়েছে ভয়ংকর শাস্তি । ব্যক্তিজীবন ছাড়াও জাতীয় জীবনে শিক্ষাক্ষেত্রে নকলপ্রবণতা , ব্যবসাক্ষেত্রে ভেজাল , প্রতারণা , কর্মক্ষেত্রে ঘুষ , দুর্নীতি ইত্যাদির মূলে রয়েছে মিথ্যা ।

মিথ্যার অক্টোপাস নানারূপে সহস্র শুঁড় বিস্তার করে মিথ্যাশ্রয়ী ব্যক্তিকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে নেয় । উপসংহার – সত্যের জয় অনিবার্য , আর মিথ্যার পণিাম ধ্বংস । কাজেই অমূল্য মানবজীবন সার্থক ও সুন্দর করে তোলার জন্য সততা অবলম্বনই একমাত্র পন্থা । সততা আমাদের যাবতীয় অন্ধকার থেকে আলোকিত পথে নিয়ে যায় । সততাই হোক জীবনের মৌল আদর্শ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button