Reading education tips

ধনী হওয়ার সহজ উপায়

Easy way to get rich

ধনী হওয়ার সহজ উপায়

 

ধনী হওয়ার সহজ উপায় ত্রিশ বছর আগে এডুইন সি বার্নেস যখন মালবাহী রেলগাড়ি থেকে নিউজার্সির অরেঞ্জ শহরে আসেন তখন চেহারা ভ্রাম্যমাণ দেখালেও চিন্তা – ধনী হওয়ার সহজ উপায় ভাবনাগুলো ছিল রাজার মতো ! রেল রোড থেকে তিনি যখন টমাস আলভা এডিসনের অফিসে যান তার মন ছিল অবিচল । তিনি এডিসনের সামনে গিয়ে দাঁড়ান । তাকে এডিসনের সঙ্গে কোনো কাজ করতে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন যা ছিল তার আজন্ম স্বপ্ন বার্নেসের এ আকাঙ্ক্ষা ছিল বহুদিনের । কয়েক বছর পর এডুইন সি.বার্নেস আবার গিয়ে এডিসনের সামনে দাঁড়ান সেই একই অফিসে যেখানে প্রথমবার সাক্ষাৎ হয়েছিল বিজ্ঞানীর সঙ্গে । তবে এবার সেই আকাঙ্ক্ষা রূপ নিয়েছিল বাস্তবতায় ।

তিনি তখন এডিসনের সঙ্গে ব্যবসা করছেন । তার জীবনের স্বপ্ন ঘটেছে বাস্তবাতায় । আজকাল লোকে যারা বার্নেসকে চেনে জানে তাকে ঈর্ষা করে । বলে জীবন তাকে একটা সুযোগ দিয়েছিল বটে । তারা বার্নেসের বিজয়টাকেই শুধু দেখে কিন্তু তিনি কী করে সফল হলেন সেই কারণগুলো কেউ খতিয়ে দেখতে চায় না । বার্নেস সাফল্য পেয়েছিলেন কারণ একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্বাচন করেন ।

তিনি তার সব শক্তি  ইচ্ছা শক্তি  সব পরিশ্রম সবকিছুই ওই লক্ষ্য অর্জনের পেছনে ব্যয় করেন । তিনি আরেক সিটিতে পৌছানো মাত্র এডিসনের পার্টনার হতে পারেননি । খুবই অল্প বেতনে শুরু করেছিলেন কাজ  যতদিন না নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এক কদম এগোনো যায় কাজ করে গেছেন । যে সুযোগের সন্ধানে তিনি ছিলেন তা তিনি পেয়ে যান টানা পাঁচ বছর পরিশ্রম করার পরে । অতগুলো বছরে একটি দিনের জন্যেও কিন্তু আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কোন আশার আলো দেখতে পাননি বার্নেস । সবাই তাকে এডিসনের ব্যবসার সামান্য একজন কর্মচারী বলেই ভাবত কিন্তু তিনি মনে মনে নিজেকে এডিসনের পার্টনার ভাবতেন ।

আর এ ভাবনাটি প্রতিটি মিনিট জুড়েই ছিল তার মনের মাঝে । এ হলো সুনির্দিষ্ট আকাঙ্ক্ষার এক স্মরণীয় রূপ । বার্নেস তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছিলেন কারণ তিনি মি.এডিসনের ব্যবসায়ী সহযোগী হতে চেয়েছিলেন , আর কিছু চাননি । তিনি এ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একটি পরিকল্পনাও করেছিলেন ।

বার্নেস যখন অরেছে যান নিজেকে এ কথা বলেননি যে আমি এডিসনের কাছে । কোন চাকরি চাইব  বলেছেন  আমি এডিসনের সঙ্গে দেখা করব এবং খুব ভালো করে । বুঝিয়ে বলব আমি এসেছি তার সঙ্গে ব্যবসা করতে । তিনি এ কথা বলেননি  আমি কয়েক মাস চাকরি করব কোনো উৎসাহ না পেলে ওটা ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও কাজ খুঁজে নেব বলেছিলেন  আমি যে কোনো জায়গা থেকে শুরু করব । এডিসন যা বলবেন তা – ই করব । তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই আমি তার সহযোগী হয়ে যাব ।

ধনী হওয়ার সহজ উপায়

তিনি বলেননি এডিসনের কাছে যা চাইছি তা যদি না মেলে তবে চোখ কান । খোলা রাখব অন্য কোনো সুযোগ পাবার জন্য । তিনি বলেছিলেন পৃথিবীতে একটি জিনিসই পাবার জন্য আমি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং তা হলো টমাস আলভা এডিসনের সঙ্গে ব্যবসা করা । আমি যা চাই তা পাবার জন্য আমি আমার গোটা ভবিষ্যতকে বাজি রাখব ।শিকাগো শহরে একবার ভয়ানক অগ্নিকাণ্ড ঘটে । স্টে স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে একদল ব্যবসায়ী দেখেন তাদের দোকানপাট দাউ দাউ করে পুড়ে যাচ্ছে আগুনে । তারা একটি মিটিং করেন আলোচনা করার জন্য যে তারা কি ভবন পুননির্মাণের চেষ্টা করবেন নাকি শিকাগো ছেড়ে দেশের অন্য কোনো শহরে গিয়ে নতুন করে ব্যবসার চিন্তা করবেন ।

সবাই শিকাগো ত্যাগ করার পক্ষে থাকলেও একজন তাতে রাজি হলেন না । ওই ব্যবসায়ী সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি এ শহরেই থাকবেন । নিজের ভস্মীভূত দোকানের ধ্বংসাবশেষের দিকে হাত তুলে দেখিয়ে তিনি বললেন  ভদ্র মহোদয়রা আমি ওই জায়গাতেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম স্টোর গড়ে তুলব  তাতে যদি দোকান বারবারও পুড়ে যায় কিছু আসে – যায় না ।এ ঘটনা পঞ্চাশ বছর আগের । সেখানে দোকান তৈরি হয়েছিল । সেই দোকানটি এক সুউচ্চ মনুমেন্ট  সগর্বে মাথা উঁচু করে আছে আকাশে  যেন মনের প্রচণ্ড ইচ্ছার এক প্রতিফলন ।

সেই ভদ্রলোকটির নাম ছিল মার্শাল ফিল্ড । যে কাজটি মার্শাল ফিল্ডের জন্য সহজ ছিল , তার সহকর্মীরাও কিন্তু একই কাজ করতে পারতেন । এখানেই পার্থক্য ছিল মার্শাল ফিল্ড এবং তার সহকর্মীদের সঙ্গে । এবং একই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় এডিসনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সহস্র কর্মচারীর সঙ্গে এডুইন মি . বার্নেসের একই পার্থক্য খেয়াল করা যায় যারা সফলতা পেয়েছেন তাদের সঙ্গে যারা সফল হতে পারেননি ।

বড় হলে সবাই টাকার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে । টাকা পেতে চায় । চাইলেই তো আর অর্থ মেলে না । ধনীও হওয়া যায় না । মনে যদি থাকে ধনী হওয়ার অধিক আকাঙ্ক্ষা থাকে যদি সুনির্দিষ্ট কল্পনা ও ধৈর্য তাহলে ওই লোকের সমৃদ্ধশালী হওয়া ঠেকায় কে ? ধনী হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষার ছয়টি পদক্ষেপ রয়েছে ।

Also my link…

আত্মবিশ্বাসী মানুষ সফল হয় প্রতিবেদন

এগুলো হলো

১. আপনি ঠিক কী পরিমাণ অর্থের মালিক হতে চান , তা আগে স্থির করুন শুধু

২ . বললেই হবে না যে আমি অনেক অর্থের মালিক হতে চাই । আপনি যে পরিমাণ অর্থ পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন তার বদলে কী দিতে রাজি আছেন সে বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ হোন ।

৩.আপনার আকাঙ্ক্ষিত অর্থের মালিক কবে নাগাদ হতে চান তারও একটি সুনির্দিষ্ট দিন – তারিখ ঠিক করুন ।

8. আপনি যা বা আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছেন তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করুন এবং আপনি প্রস্তুত থাকুন বা না থাকুন কাজে নেমে যান ।

৫ .একটি কাগজে পরিষ্কার করে লিখুন আপনি কত টাকা আয় করতে চান এই পরিমাণ অর্থ কবে নাগাদ অর্জন করতে চাইছেন অর্থপ্রাপ্তির বিনিময়ে আপনি নিজে কী দিতে পারবেন এবং এ অর্থ কীভাবে জোগাড় করবেন বলে ভাবছেন তার একটি পরিষ্কার ছকও করে ফেলুন ।

৬.আপনার লেখা কাগজটি প্রতিদিন দু’বার জোরে জোরে পড়বেন একবার পড়বেন ঘুমাতে যাওয়ার আগে দ্বিতীয়বার পড়বেন সকালে ঘুম থেকে ওঠে । পড়ার সময় মনে হবে আপনি সত্যি আপনার কাঙ্ক্ষিত অর্থ পেয়ে গেছেন ।

এই ছয়টি পদক্ষেপ অনুসরণ করা জরুরি । বিশেষ করে ষষ্ঠ প্যারাগ্রাফটি লক্ষ্য করুন এবং ওখানকার পরামর্শ অনুসরণ আপনার জন্য অবশ্য কর্তব্য । আপনি বলতে পারবেন যে টাকা পাবার আগেই টাকা পেয়ে গেছেন এমনটি ভাবা আপনার জন্য একদম অসম্ভব । আর এখানেই তীব্র আকাঙ্ক্ষা এগিয়ে আসবে আপনার সাহায্যে । আপনার যদি সত্যি টাকা পাবার বাসনা থাকে আকাঙ্ক্ষা হয়ে ওঠে একটি অবসেশন তাহলে আপনি যে টাকাটা পাবেনই তা মনকে বোঝাতে খুব একটা কষ্ট হবে না ।

আসল বিষয় হলো টাকাটা আপনার চাইতে হবে এবং এটি পাবার জন্য এতটাই দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়ে উঠবেন যে নিজেকে বোঝাতে পারবেন আপনি টাকাটা পাবেন । যারা অর্থ সচেতন হন তারা ধনী হয়ে ওঠেন। অর্থ সচেতনতার মানে মনের মধ্যে অর্থ পাবার আকাঙ্ক্ষা এতটাই দৃঢ়ভাবে বসে যায় যে সে দেখতে পায় টাকাটা পেয়ে গেছে । যে ছয়টি পদক্ষেপের কথা বলা হলো সেগুলো কিন্তু এন্ড্রু কর্নেগির কথা ।

তিনি একটি ইস্পাত কারখানায় একজন সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তবে এ পদক্ষেপগুলো তাকে এক সময় একশো মিলিয়ন ডলারের মালিক বানিয়ে দেয় । এই ছয়টা পদক্ষেপ প্রয়াত টমাস আলভা এডিসনও সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করেছিলেন । তবে আপনি যদি মন থেকে বিশ্বাস না করেন যে আপনার প্রত্যাশিত অর্থপ্রাপ্তি ঘটবে না তাহলে কিন্তু সত্যি টাকা পাবেন না । আপনাকে কল্পনায় সমুদ্ধশালীদেরকে দেখতে হবে ।

ব্যাংক ব্যালান্সের মধ্যে তা দেখতে পাবেন না । পরিবর্তিত এ পৃথিবীতে অতীতের বিখ্যাত সবমানুষের শক্তি আপনাকে ধরতে হবে যাদের স্বপ্ন এ সভ্যতাকে সবরকমের মূল্যায়ন দিয়েছে যে স্পিরিট আমাদের নিজেদের দেশের জীবন – শোণিত হিসেবে কাজ করছে সুযোগ দিচ্ছে আপনাকে এবং আমাকে  আমাদের প্রতিভাগুলোর উন্নয়ন ঘটাচ্ছে । ভুলে যাবেন না কলম্বাস এক অচেনা – অজানা পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং  এরকম একটি পৃথিবী আবিষ্কারের নেশায় ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছিলেন নিজের জীবন এবং সেই দেশটি তিনি অবশেষে আবিষ্কার করেন ।

প্রখ্যাত জোতিবিদ কোপার্নিকাস প্রাচুর্যময় পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতেন  যে দুনিয়া হবে অনেক সংখ্যার । তিনি তা আবিষ্কার করার পরে কেউ তাকে অবাস্তববাদী বলে গালাগাল পাড়েনি । তার বদলে পৃথিবী তার পূজো করেছে । আপনি যদি মনে করেন যে কাজটি করছেন তা সঠিক এবং আপনি তাতে বিশ্বাসও করেন তবে এগিয়ে যান । কাজটি করুন । স্বপ্নকে সামনে রাখুন কারা কী বলে এসবে একদমই পাত্তা দেবেন না যদি আপনার সাময়িক পরাজয়ও ঘটে থাকে । কারণ তারা জানে না প্রতিটি ব্যর্থতার মাঝেই রয়েছে একটি সাফল্যের বীজ ।

সব ব্যর্থতাতেই লুকিয়ে থাকে সাফল্যের বীজ হেনরি ফোর্ড অশিক্ষিত এবং দরিদ্র স্বপ্ন দেখতেন অশ্ববিহীন একটি বাহনের সঙ্গে যেসব যন্ত্রপাতি ছিল তা নিয়েই কাজে নেমে গেলেন কবে সুযোগ আসবে তার অপেক্ষা করলেন না । আর আজ তার স্বপ্নের ফলাফল গোটা পৃথিবী বাধা পড়েছে একটি বন্ধনীতে । টমাস এডিসন একটি বাতির স্বপ্ন দেখতেন যা চলবে বিদ্যুতে তিনি নিজের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করে দিলেন কাজ এবং দশ হাজার বারেরও বেশি ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি ওই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে তবেই বিরত হলেন ।

বাস্তববাদী স্বপ্নচারীরা কখনো হাল ছাড়েন না ! ওয়েলান সিগারের চেইন স্টোর গড়ে তুলবার স্বপ্ন দেকেছিলেন তিনি তার স্বপ্নকে কাজে রূপান্তরিত করেন তারই ফল আজ আমেরিকার কোনো দখল করে রেখেছে ইউনাইটেড সিগার স্টোর । কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসদেরকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখতেন লিংকন এবং স্বপ্নের বাস্তবায়নে তিনি নেমে পড়েন ।

উত্তর এবং দক্ষিণের মাঝে বন্ধন স্থাপনের দৃশ্যটি তিনি দেখে যেতে পারেননি বটে তবে ক্রীতদাসরা তারই কারণে শত বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি লাভ করে । রাইট ভ্রাতৃদ্ধয় এমন এমন একটি যন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন যা আকাশে উড়বে । তাদের স্বপ্ন পূরণের প্রমাণ আজ সারা বিশ্বজুড়ে । মার্কোনি এমন একটি সিস্টেমের স্বপ্ন দেখেছিলেন যা ইথারের অধরা শক্তিকে ধরতে পারবে । তার স্বপ্ন বৃথা যায়নি সারা পৃথিবীতেই আজ রেডিও আছে ।

তবে মার্কোনি যখন বলেছিলেন তিনি তারের সাহায্য ছাড়াই বাতাসে খবর প্রেরণ করবেন তার বন্ধুরা তাকে পাগল ভেবে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল চিকিৎসা করাতে । বিশ্ব এখন নতুন নতুন আবিষ্কার দেখে অভ্যস্ত । আর স্বপ্নচারী মানুষগুলোই এসব আবিষ্কার করেছেন । তবে এদের বেশিরভাগই প্রথমে ব্যর্থ হয়েছিলেন । কিন্তু তারা জানতেন ব্যর্থতার মাঝেই লুকিয়ে থাকে সাফল্যের বীজ ।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button