Reading education tips

আমার জীবনের লক্ষ্য গল্প

আমার জীবনের লক্ষ্য গল্প

 

আমার জীবনের লক্ষ্য গল্প দৈনন্দিন জীবনে আমাদের যেসব পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তার সাথে তাল মিলিয়ে উঠতে আমাদের দু’ধরনের চিন্তাধারার দরকার পড়ে। একটি হলো দ্রুত চিন্তা অন্যটা হলো ধীরস্থির চিন্তা।

দ্রুত চিন্তা হচ্ছে ঐসব চিন্তাধারা যেগুলো আমরা স্বল্পমেয়াদি কাজকর্মে, দায়দায়িত্ব পালনে, ছোট ছোট সমস্যা সমাধানে ও স্বল্পমেয়াদি প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্যবহার করে থাকি এসব ক্ষেত্রে আমরা প্রবৃত্তিগতভাবেই দ্রুত সাড়া দিয়ে থাকি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্রুত চিন্তাভাবনা আমাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপের জন্য পুরোপুরি মানানসই।

চিন্তাধারার দ্বিতীয় ধরন হচ্ছে ধীরস্থির চিন্তন। এটি সম্পর্কে কাহ্নেম্যান তাঁর বইতে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

এটা হচ্ছে এমন, যখন আপনি কোনো কিছু করতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই এ সম্পর্কে বারবার ভাবেন এবং সতর্কতার সাথে পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য জেনেও পদক্ষেপ নিতে একটু বেশি সময় নিয়ে থাকেন।

কাহ্নেমানের অন্তর্দৃষ্টি হলো যেসব কাজে ধীরস্থির চিন্তা প্রয়োজন বা আবশ্যক, সেসব কাজে ধীরস্থির চিন্তায় ব্যর্থ হয়েই আমাদের জীবনের অধিকাংশ ব্যর্থতার কারণ ।

সময় ব্যবস্থাপনায় অতুলনীয় হতে হলে এবং নিজের জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে ধীরস্থির প্রতিনিনের গুরুত্বপূর্ণ

কাজে মন্থর চিন্তায় মগ্ন হতে হবে। কাজ শুরুর আগে এ প্রশ্নটি দিয়ে শুরু করুন, “আমি কি করার চেষ্টা করছি”?

ভেবেচিন্তে কাজ করুন

মাঝে মাঝেই আপনি কর্মস্থলে নিজেকে এত বেশি পরিশ্রমের মধ্যে দেখেন যে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় পর্যন্ত পান না; তখন মাঝে মধ্যেই ভুলে যান, আপনি আসলেই কী জন্য কী করেছেন।

এক দম্পতির একটা গল্প বলি- যারা গাড়ি ভ্রমণের জন্য স্যান-ডিয়াগো থেকে লস অ্যাঞ্জেলসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। রাস্তাটা তাদের কাছে অপরিচিত কিন্তু সেই লোকটি দ্রুত বেগে গাড়ি চালাচ্ছিল। এ সময় তার স্ত্রী তাকে জিজেস করলো,

প্রিয়তম, ফোনিক্স কি লস অ্যাঞ্জেলসের পথে”?

সে প্রতিউত্তরে বললো, “তুমি কেন জিজ্ঞেস করছো”?

তার স্ত্রী বললো, “বেশ,

আমরা এক সংকেত পেরিয়ে এলাম যা থেকে বুঝলাম আমরা ফোনিক্সের পথে”। লোকটি বললো, “কিছু মনে করো না, আমরা খুব ভালো সময় পার করছি”। তাদের গন্তব্য যে লস অ্যাঞ্জেলস কিন্তু সেদিকে লোকটির কোনো লক্ষ্যই নেই। আর সে কারণে আনার জীবনের গতি নিয়ন্ত্রখে পা দেয়ার আগে অবশ্যই

আপনার লক্ষ্য সম্পর্কে নিশ্চিত স্পষ্টতা অর্জন করতে হবে। আপনি সত্যিই কী

অর্জন করার চেষ্টা করছেন সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।

এমোস বায়ার্স তাঁর ‘দ্যা ডেভিলস ডিকশনারি’তে লিখেছেন, “অন্ধবিশ্বাসের সংজ্ঞা হলো আপনার জীবনের লক্ষ্য হারিয়ে যাওয়ার পরে আপনার প্রচেষ্টা আরও বৃদ্ধি করা” ।

আপনার লক্ষ্য কি একটি মহৎ জীবন তৈরি করা?

আপনি কি কোনো মহৎ পেশা তৈরি করার চেষ্টা করছেন নাকি কোনো মহৎ কাজের অংশ অর্জন করার চেষ্টায় আছেন?

সময় ব্যবস্থাপনার জন্য আপনার ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর, আত্ম বিশ্লেষণ ও অন্তদর্শনে নিযুক্ত হওয়া এবং ধীরস্থির চিন্তাভাবনা করার যোগ্যতা আপনার সময়কে সুন্দরভাবে গোছাতে ও সময়ের সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করবে। আপনি অনুভব করবেন যে সব থেকে কর্মক্ষম ব্যক্তি এবং আপনি যা করছেন না কেন তা থেকে যেন অনেক আনন্দ, তৃপ্তি এবং সুখ অর্জন করছেন।

পরিসমাপ্তির কথা মাথায় রাখুন

আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের বিষয়ে পরিষ্কার থাকুন। স্টিফেন কোভে বলেছিলেন, “পরিসমাপ্তি মাথায় রেখে শুরু করুন।”

আপনি যা অর্জন করার জন্য সংগ্রাম করছেন তার ফলাফল বা চূড়ান্ত পরিণতি কী?

এখান থেকে আপনি কী অর্জন করতে চান?

আপনি দিনশেষে কোথায় সমাপ্তি টানতে চান?

যেহেতু আপনি সফলতার সিঁড়ি বেয়ে হামাগুঁড়ি দিয়ে খাড়া হয়ে উঠছেন, আপনার নিশ্চিত থাকতে হবে। যে, চলার পথের সবকিছু ঠিকমতোই আছে।

আপনি কি কাজ করছেন টাকা উপার্জন করে নিরাপদ এবং খুশি থাকার জন্য?

আপনি কাজকে ভালোবাসেন সেজন্যই কি কাজ করছেন?

নাকি আপনি অনুভব করেন যে, আপনি কোনো বিশেষ কাজে আছেন যা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

ভাবুন তো, আপনি যদি আপনার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেন তাহলে আপনার পৃথিবীটা দেখতে কেমন হবে?

আপনার নিজের জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পেশার জন্য আপনার লক্ষ্য কী?

আপনি অন্য মানুষদের জী ধরনের পরিবর্তন আনতে চান?

আপনি যদি শুধুমাত্র নানান বিল বা বকেয়া পরিশোধ করার জন্যই কাজ তাহলে কর্মক্ষেত্রে প্রবল উদ্দীপনা বজায় রাখা আপনার জন্য বেশ কঠিন হয়ে गान। সত্যিকারভাবে সুখী এবং তপ্ত হতে হলে আপনাকে সবচেয়ে বড় কাজগুলো অনে জন্য উদ্দীপনার সাথে আত্মনিয়োগ করতে হবে যা আপনার জীবন ও কর্মকে অন্যদের থেকে পৃথক করবে।

আপনার কার্যপ্রণালী যাচাই করুন

আপনি কী করতে চাচ্ছেন সে বিষয়ে যখন পরিষ্কার হয়ে যাবেন তখন অবশ্যই নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আমি কীভাবে এটা করব?”

প্রতিটি কাজের অ আপনি যদি এ দুটি প্রশ্ন করেন “আমি কী করতে যাচ্ছি?

আর তা কীভাবে করব?

এবং এ দুটি প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে যখন চিন্তাভাবনা করবেন তখন আপনি এমন মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করবেন যা আপনাকে আপনার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করাবে, আপনি সঠিক পথে আছেন কিনা।

আর যখন আপনি কি করতে যাচ্ছেন সে বিষয়ে পরিষ্কার হয়ে কাজটা করতে থাকবেন তখন অবশ্যই নিজেকে এ তৃতীয়

প্রশ্নটি করুন কাজটা কেমন চলছে?

তারপর ভাবুন, আপনি যেমনটি চেয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই কি কাজটা দ্রুত ও

দক্ষতার সাথে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে আপনি কি আপনার কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট?

সবকিছু ঠিকঠাক চলছে তো? নাকি আপনার চলার পথে প্রতিনিয়ত বাধাবিপত্তির সম্মুখীন

অধিকাংশ সময়ই আপনার কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তুলুন। পিটার ড্রাকার যেমনটা বলেছিলেন, “প্রত্যেকটা ব্যর্থতার মূলে রয়েছে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

চিন্তা করুন আপনার জীবন ও কাজের প্রতি আপনি কী ধারণা পোষণ করেন?

আপনার জীবন ও জীবিকার উন্নতিকল্পে আপনি কী কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

এখানে কোন সিদ্ধান্তগুলো জ্ঞাতসারে নেওয়া আর কোনগুলো অজ্ঞাতসারে নেওয়া?

এটা খুবই বিস্ময়কর যে অনেক কঠোর পরিশ্রমী মানুষ ভুল ধারণার ভিত্তিতে কাজ করে যায় অথচ তারা কখনোই তাদের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন করে না।

ভালো উপায় খুঁজুন

আপনি যখন এ প্রশ্নটি চিন্তা করবেন- “

কাজটা কেমন চলছে”?

তখন আপনার আরেকটি প্রশ্ন নিয়ে ভেবে দেখা উচিত “কাজটি করার জন্য এর চেয়ে ভালো ও সহজ কোনো উপায় আছে কি-না?”

মোদ্দা কথা হচ্ছে, ব্যবসার ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের জন্য সময়ই ভিন্ন ও অধিকতর ভালো উপায় থাকে। এ উপায়টা চেয়ে অনেক দ্রুততোর, সহজ এবং বেশি কার্যকরী হতে পারে। এ সম্পর্কে সুন্দর একটি উক্তি আছে, “জীবনকে সুন্দর করার জন্য জীবনের গতি বৃদ্ধি ছাড়াও অনেক পদ্ধতি আছে।”

অনেক মানুষ আছে যারা কঠোর পরিশ্রম করে কিন্তু তারা ভুল পথে ভুল নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। ফলে তারা কী করার চেষ্টা করছে বা এর শেষ কোথায় এ বিষয়ে তারা পরিষ্কার ধারণা রাখে না।

কিন্তু তারা ভুল থেকে সৃষ্ট সমস্যারও মুখোমুখি হতে চায় না। এ ধরনের ভুল থেকে বাঁচতে কাজটির পদ্ধতি সম্পর্কে নিজেকে প্রশ্ন করুন। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কঠিন প্রশ্ন করার জন্য ধীরস্থির চিন্তাভাবনা করুন।

আপনার এ ধীরস্থির চিন্তাভাবনাই সহজ ও কার্যকরী পথে আপনার জীবন গতি বৃদ্ধি করে দেবে এবং আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button