Reading education tips

আত্মবিশ্বাসী মানুষ সফল হয় প্রতিবেদন

আত্মবিশ্বাসী মানুষ সফল হয় প্রতিবেদন

 

আত্মবিশ্বাসী মানুষ সফল হয় প্রতিবেদন আত্মবিশ্বাস সাফল্যের দ্বিতীয় চাবিকাঠিটি হলো আত্মবিশ্বাস । সফলতা অর্জনের জন্য আপনাকে নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে । অন্য কেউ যতক্ষণ আপনাকে বিশ্বাস করছে না ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজের প্রতি বিশ্বস্ত হতে পারবেন না আবার অন্য কেউ আপনার উপর বিশ্বাস আনতে পারবে না ; যদি না আপনি তার যোগ্য হন । আজকের দিনে দেখা হওয়া প্রায় সকলেই যদি আপনার প্রতি মন্তব্য করে যে , আপনাকে অসুস্থ দেখাচ্ছে তবে আজ রাত পোহাবার আগেই একজন ডাক্তারের সাথে দেখা করা শ্রেয় হবে বৈকি ।

আর যদি আজকে দেখা হওয়া একাধারে তিন জন মানুষ আপনাকে বলে যে আপনাকে অসুস্থ মনে হচ্ছে তবে আপনি অসুস্থতা অনুভব করবেন । পক্ষান্তরে , আজকে দেখা হওয়া সকলে যদি আপনাকে বলে , অসাধারণ পছন্দনীয় ব্যক্তি তো আপনি , তাহলে কথাগুলো আপনাকে এতটাই প্রভাবিত করবে যে আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে । আপনার কর্মীরা যদি প্রতিদিন আপনাকে নিয়ে মন্তব্য করতে পছন্দ করে তবে তাদের সেই কাজগুলো সম্পর্কে বলুন যেটা সবচেয়ে ভালো কাজের মধ্যে পড়ে । আর তা আপনাকে নিজের প্রতি বিশ্বাসী হতে প্রভাবিত করবে ।

যদি আপনার কর্মীরা প্রতিনিয়ত বলে থাকে যে আপনি খুব ভালো করছেন তবে বুঝবেন আপনার নিজের প্রতি নিজের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস রয়েছে । আমাদের সকলের দরকার শুধু অন্য সকলে আমাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন আর সাহস যোগানো । যারা জানে তারা বলে থাকে , একজন মানুষের স্ত্রীই তাকে সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করাতে পারে শুধুমাত্র প্রতিদিন তাকে কাজ করতে যাওয়ার সময় একটা সুন্দর হাসি আর উৎসাহ যোগানোর মতো কোনো কথা বলে ।

যিনি রোড টু সাকসেস – এর জন্য এ চাবিকাঠিগুলো তৈরি করেছেন তিনি সফলতার জন্য অধিকাংশ ক্রেডিটই তার স্ত্রীকে দিয়েছেন । তার স্ত্রী প্রতিদিন তাকে কাজ করার জন্য বাইরে পাঠাতো উৎসাহমূলক এ চিত্তা তার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে : তুমি আজ গতদিনের চেয়েও ভালো কাজ করতে যাচ্ছে ! তিনি কখনো তার স্বামীর প্রতি বিরক্ত হতেন না ।

কখনো তাকে সমালোচনা করতেন না । ফিরতে দেরি হলেও অপদস্থ করতেন না । তিনি সব সময় তার স্বামীকে বলতেন , কি অসাধারণ মানুষ তার স্বামী । তবে একদিন তিনি একেবারে ভিন্ন কিছু একটা করে বসলেন- তিনি ধর্মগ্রন্থ থেকে একটা উক্তি লিখে এমন একটা জায়গায় ঝুলিয়ে দিলেন যাতে করে তার স্বামী যেখানে কাজ করেন সেখান থেকে সব সময় তা চোখে পড়ে ।

Also my link….

newspaper Compositions

Aim in life Compositions

সেই ধর্মীয় বাণীর একটা কপি এখানে তুলে দেওয়া হলো 

নিজের উপর আমার বিশ্বাস আছে । আমার বিশ্বাস আছে তাদের প্রতি যারা আমার সাথে কাজ করে । আমি আমার কর্মীদের বিশ্বাস করি । বন্ধুদের প্রতি বিশ্বাস আছে । পরিবারের উপর বিশ্বাস আছে । আমি বিশ্বাস করি সেই ঈশ্বরকে যিনি আমাকে সেই সবকিছুর অধিকারী করেছেন যা সফলতা পেতে আমার প্রয়োজন রয়েছে । যদি আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখি তবে বিশ্বাস  যোগ্যতা আর সততার মাধ্যমে তা অর্জন করব ।

আমি প্রার্থনা করি জীবনের শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রতি আমি ধৈর্য্যধারণ করতে পারি এবং যারা আমার প্রতি বিশ্বাস রাখে তাদের প্রতি যাতে পরমতসহিষ্ণু হতে পারি  ঐশ্বরিক আত্মার প্রতি এ প্রার্থনা না করে বিছানায় যাব না । আমি বিশ্বাস করি সফলতা হলো বোধশক্তিসম্পন্ন চেষ্টার ফলাফল এবং ভাগ্য বসে থেকে ধৈর্যধারণ বা কোনো বন্ধুর সাহায্য সহকর্মীদের সাহায্য ইত্যাদির উপর নির্ভর করে না।

বিশ্বাস করি আমি সে ফলই পাব যা আমি জীবনকে দিয়েছি । এছাড়াও আমি আরো বেশি সতর্ক অন্যের সাথে আমার যোগাযোগের ক্ষেত্রে । যাকে আমি পছন্দ করি না তাকে কখনো গালি দেওয়াটা আমি পছন্দ করি না অন্য জন কি করে তার উপর ভিত্তি করে আমি আমার কাজকে খাটো করে দেখব না ।

আমি যা করতে পারি তার সবটুকুই আমি করব কারণ নিজেকে আমি বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যেন জীবনে আমাকে সফল হতেই হবে এবং আমি জানি সফলতা হলো একাধারে বুদ্ধিমান প্রচেষ্টার ফলাফল । পরিশেষে আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দেব যারা আমার বিরোধিতা করেছে কারণ আমি বুঝতে পেরেছি একসময় আমিও কারো না কারো বিরোধিতা করেছি এবং সেজন্য তাদের কাছেও আমার ক্ষমা পেতে

অবাক লাগছে যখন আপনি তার স্বাক্ষরিত এ স্বীকারোক্তিটা পড়ছেন ? কেন খনি শ্রমিক হিসেবে জীবন শুরু করা তরুণ সফল এবং বিত্তশালী মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছিলেন এবং সে অনুযায়ী তার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন  এ স্বীকারোক্তিটা অত্যন্ত ভালো হবে আপনি

স্বাক্ষর করা এবং যেখানে কাজ করেন । তার সামনে ঝুলিয়ে রাখার জন্য যেখানে থেকে প্রতিদিন সেটা আপনার চোখে পড়ে , আর অন্য সকলেও তা দেখতে পারে । প্রথম দিকে এ স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চলতে অনেকটা কষ্ট বলে মনে হতে পারে , কিন্তু , মনে রাখবেন সবকিছুই কোনো কোনো ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় । এক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসই আপনাকে এ স্বীকারোক্তির সবগুলো উপদেশ মেনে চলতে পথ প্রদর্শক হতে পারে ।

আত্মবিশ্বাসী মানুষ সফল হয় প্রতিবেদন

যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন তবে এ স্বীকারোক্তিটা আপনার সহধর্মিনীকে দেখান । আর যদি সিঙ্গেল হয়ে থাকেন তবে যাকে জীবন সঙ্গিনী হিসেবে বেছে নিতে সবচেয়ে অধিক পছন্দ করেন তাকে দেখান এবং তাকে বলুন এ স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জীবযাপন করতে তিনি যেন আপনাকে সহযোগিতা করে । অন্য কেউ আপনার উপর বিশ্বাস রাখুক যদি এমন চান তবে নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন ।

অন্য কেউ আপনার সফলতা পাওয়ার জন্য আশা করলে আগে নিজে সফলতার আশা করুন । আপনার যতটুকু না মূল্য তার চেয়ে বেশি পৃথিবী আপনাকে মূল্যবান করে দেবে , আর তারপর নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি করে নিন । নিজের উপর আস্থা রাখলে তার বহু মর্যাদা পাবেন সে মর্যাদা আপনার ব্যক্তিত্বকে বৃদ্ধি করে দেবে বহুগুণে আর তা অন্য সকলকেও উদ্বুদ্ধ করবে তাদের নিজেদের প্রতি আস্থা রাখতে ।

একজন মানুষকে আমরা জানি যিনি অন্যকে তাদের আত্মোন্নয়নে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের পুরোটা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন । একদিন হঠাৎ জানতে পারলেন একজন সফল ব্যবসায়ী তার বিশাল ধনম্পদের কিছু অংশের মালিকানা তাকে লিখে দিয়েছেন । ব্যবসায়ীর কাছে জানতে গেলে তিনি বলেন

আপনার একটা বই আমাকে সফল মানুষ হতে সাহায্য করেছে আর তাই আমার সম্পদের একটা অংশ আপনার নামে লিখে দিয়েছি , যাতে করে আমাকে যেভাবে আপনি সাহায্য করেছেন ঠিক সেভাবে আরো মানুষকে সাহায্য করতে পারেন । কাউকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে টাকা দিয়ে সাহায্য করা ছাড়াও আরো অনেক উপায় রয়েছে আর সেটা অনাবিল আনন্দ বয়ে আনতে পারে ।

টাকা পয়সার দিক দিয়ে হয়তো আপনি ধনী হতে পারেন আবার আপনি “ অন্য কোনো কিছু ” র দিক থেকেও ধনী হতে পারেন যা টাকাপয়সা দিয়ে কেনা যায় না এবং যা নির্দিষ্ট কোনো পরিমাপ দিয়ে মাপা যায় না । যেমন- আপনি যদি কারও শিল্প উন্নয়নে সাহায্য করতে যান তাহলে প্রথমে আপনাকে নিজের উপর আস্থা অর্জন করতে হবে । আর তা হলো যে কোনো কিছু অর্জনের প্রথম ধাপ ।

স্বয়ং

পৃথিবীতে আপনার কাছে আপনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি । একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে দাঁড় রাতে যেসব উপকরণের প্রয়োজন তার সবটাই আছে আপনার । সব ধরনের সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে আপনার মধ্যে যেগুলো আপনাকে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ( সফলতা এবং সুখ অর্জন ) ঊর্ধ্বে তুলে ধরবে ।

যেন আপনি , হ্যাঁ আপনিই যোগ্য এবং আপনিই এ পৃথিবীতে আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি , এ ছোট্ট অনুচ্ছেদটি আপনাকে এ বিষয়টা আরো অধিক বুঝতে সাহায্য করবে । যে জিনিস পাওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করবেন , ধ্যান – জ্ঞান করবেন তা আপনার হবে আপনার সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে আকাঙ্ক্ষাগুলোর একটা কাঠামো দাঁড় করাবে। আর আকাঙ্ক্ষার যথাযথ মেলবন্ধন সেই সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে আপনার মধ্যে বাসা বাঁধবে।

সম্মান ধনসম্পদ আর ক্ষমতা যে কোনো সময় আসতে পারে , সেগুলো অর্জন নাও করতে হতে পারে বা সেগুলো পাওয়ার জন্য কোনো দায় নিতে নাও হতে পারে কিন্তু সেগুলো আপনার নিজের হবে না  এবং আপনার থেকে চলেও যেতে পারে যদি আপনি সেগুলো নিজের করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট তৈরি না থাকেন বা সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার না করতে পারেন । একজন মানুষের সক্ষমতা তার নিজের মধ্যেই বাস করে , আর সেই সক্ষমতার সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সে নিজেই  এ।

দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে গিয়ে  যে সমাজে আপনি বাস করেন সে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনে আপনি ব্যর্থ হতে পারেন না , ব্যর্থ হতে পারেন না আপনার মর্যাদা ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে এবং আশপাশের সকলের সম্মান হানি করতে । আপনি হয়তো কয়েকশ জনে বা কয়েক হাজার জনে একজন হতে পারেন যে কিনা বিশাল কোনো ব্যবসা সামলাচ্ছেন । আপনার প্রতিদিনের কাজটা হয়তো একঘেয়েমি বা তুচ্ছ মনে হতে পারে ।

এখানে উৎসাহ বা ব্যক্তিগতভাবে গর্ব করার মতো কোনো উদ্দীপক হয়তো নেই । নিজের প্রতি দৃষ্টি রাখুন এবং নিজেকে প্রমাণ করুন । আপনি যেমনটা চাইবেন কাজ ঠিক সেভাবেই এগুবে- আপনি যা আশা করছেন সবসময় ঠিক তেমনটিই হবে । যেটা আপনার কাজ নয় , যেটা আপনার দায়িত্ব নয় বা আপনার জন্য বিবেচনা করা হবে না- সেটাই কিন্তু আপনি স্বয়ং । বড় কিছু করার ক্ষমতা আছে এমনটা বিশ্বাস করুন ।

শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা রেখে অন্যদের আস্থাও আপনি অর্জন করতে পারবেন । যা করার জন্য মন স্থির করবেন সেটা মনে – প্রাণে উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে করবেন আপনার সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে করবেন । এমনভাবে করুন , এমন উপায়ে করুন যাতে করে অন্যরা আপনাকে লক্ষ্য করে । অন্যদের তখনই আকর্ষণ করতে পারেন যদি আপনার করা কাজটা সকলের কাছে বোধগম্য এবং গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় । সব কিছুই আপনার নিজের উপর নির্ভর করছে ।

নিজের সক্ষমতার প্রতি হতাশ হওয়া নিজেকে নিজে সাহায্য না করে ছোট করা ছাড়া আর কিছুই নয় । ভালো কিছু করার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া এবং বড় কিছু করার জন্য নিজেকে তৈরি করলে এর পুরস্কার নিশ্চয়ই পাবেন । আপনার বসের পদটা পাওয়ার জন্য তার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করার কোনো দরকার নেই । তেমনটি হওয়ার জন্য বড় জোর ইচ্ছা করতে পারেন , তবে তার কোনো প্রয়োজন নেই । অপেক্ষা করে করে আপনি নিজেকে নিজের প্রতি বিষিয়ে তুলছেন । এর জন্য আপনি , হ্যাঁ , শুধুমাত্র আপনিই দায়ী ।

কোনো প্রতিষ্ঠানেই এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই যে , জ্যেষ্ঠতার বিচার করে পদোন্নয়ন দেওয়া হবে , প্রতিটি তরুণ এবং তরুণী তার সর্বোচ্চটা ঢেলে দিয়ে এবং প্রতিষ্ঠানে নিজের মর্যাদার উন্নয়ন করে পদোন্নয়ন ঘটাতে পারেন । আপনাার মর্যাদার পরিমাপ করতে গিয়ে নিজেকে কিছুতেই আত্মঅহংবোধের সাগরে ভাসিয়ে দেবেন না । অযথা নিজের দাম বৃদ্ধি করতে পারে না ।

একজনের যথাযথ মর্যাদার পরিমাপ করতে গেলে অবশ্যই তার ক্রেডিট নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে । যখন আপনি আপনার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন তখন সেটা ধরে রাখতে হবে , যাতে করে আপনার গুরুত্বের ক্ষমতাটাকে ঠাণ্ডা মাথায় উপযুক্ত সময়ে কাজে লাগাতে পারেন । আপনার কল্পনার চাইতেও বড় আপনি । এর উপর ভিত্তি করেই কাজ চালিয়ে যান । এখন যে কাজটা করছেন সেটা সম্পর্কে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও আপনার সমবয়সীদের চেয়ে ভালোভাবে তা করার চেষ্টা করুন ।

এভাবে আপনি যে এর চেয়েও উঁচু পদের প্রাপ্য সেটা সকলকে বুঝিয়ে দিন । এভাবে আরো গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই একই উদ্দীপনা নিয়ে এগিয়ে গেলে , এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব আপনার জন্য অপেক্ষা করবে । আর এভাবে আপনি এগিয়ে যেতেই থাকবেন ।

সবকিছুই আপনার উপর নির্ভর করছে । যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন এগিয়ে যাবেনই তাহলে কোনো কিছুই আপনাকে বাঁধা দিয়ে আটকে রাখতে পারবে না । অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় মহান মানুষেরা জীবনের প্রথম দিকে সাধারণ কোনো একটা কাজ দিয়ে শুরু করেছেন- হতে পারে সেটা আপনার মর্যাদা অনুসারে ছোট কোনো কাজ । কিন্তু তাঁরা নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরেছিল , নিজেদেরকে জানতে পেরেছিল  আমি পারব  এ কথাটার মধ্যে যে কতটা ক্ষমতা আছে সেটা হয়তো তাঁরা বুঝতে পেরেছিল ।

সুযোগ কখনো আপনার হাতে ধরা দেবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি সেগুলো পাওয়ার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা না করবেন । যেখানে কাজ করছেন তা আরো ভালো করার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হোন । কিভাবে কম মানসিক চাপ আর কম শারীরিক শক্তি খরচ করে আরো অধিক উৎপাদন করা যায় তা করে দেখিয়ে দিন ।

বর্তমানের অবস্থায় সারাজীবন থাকার জন্য আপনার জন্ম হয়নি । যদি উন্নতির চূড়ায় উঠতে চান সবসময় আপনার জন্য সে সুযোগ হাতের নাগালেই রয়েছে । চূড়ায় ওঠার মধ্যে আনন্দও আছে । কাজের মধ্যেও আনন্দ আছে যদি তা খুঁজে নিতে পারেন ।

যার জীবনে কোনো লক্ষ্য আছে তার কাছে তাশার কোনো স্থান নেই । সে এখন যে কাজটা করছেন তার চেয়ে ভালো কোনোকিছু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে । সেটা না চাওয়া পর্যন্ত আপনি পাচ্ছেন না এবং কখন বা কিভাবে তা পাচ্ছেন সেটা কোনো বিষয় না , াজের জন্য আপনি যোগ্য হবেন এবং এরপর আরো ভালো কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করুন ।

পৃথিবীর জন্য যিনি ভালো হবেন তাকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য পৃথিবী অপেক্ষা করছে  প্রতিটি মহান কাজের জন্য তাকে যথাযথ মর্যাদা দিতে তারা প্রস্তুত এবং যা তার জন্য গর্বের বিষয় ।

আরো ভালো পদমর্যাদা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে , কিন্তু বর্তমানের কাজটাকে যথাযথ উপায়ে করার মাধ্যমে আরো মর্যাদাসম্পন্ন পদের যোগ্যতার পরিচয় আপনাকে দিতে হবে যাতে করে আপনার সক্ষমতা সেটাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে । কেউ না কেউ তো আপনার এমন যোগ্যতার খেয়াল করবে এবং আপনার যোগ্যতা কাজে লাগানোর জন্য ডাকবে ।

যে যোগ্যতা আপনার আছে তা কাজ করার জন্য যোগ্য । অন্য কারো সফলতা দেখে ঈর্ষান্বিত বা ক্ষোভ প্রকাশ করবেন না । আপনার নিজের জন্য সময় ব্যয় করুন ; পরের কাজের জন্যতা তুলে রাখুন এবং সুযোগ পেলেই তা ব্যবহার করুন এবং এ যোগ্য তা ও সময় ব্যয়ের ফলে কি পেলেন তার দিকে বেশি নজর দিতে যাবেন না কাজের ফলাফল এমনিতেই আসবে । কাজের পুরস্কার অনিবার্য । এটাই প্রকৃতির নিয়ম । নিজেকে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ভাবুন ।

নিজের কাছে অধিক প্রত্যাশা করুন । নিজের কাজের জন্য নিজেই তত্ত্বাবধায়ক হোন । আপনার জন্য আপনিই চূড়ান্ত বিষয় সঠিক কাজে নিজেকে ব্যবহার করুন ; নিজেকে সবচেয়ে ভালো ভাবুন ; নিজের জন্য কঠোর পরিশ্রম করুন । আপনার জন্য অন্য কেউ হয়তো উপকৃত হতেও পারে – তাদের এ উপকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করবেন না ।

নিশ্চিত করুন আপনি যে জন্য কাজ করেছেন তার পুরস্কার এবং এ পুরস্কারে অন্য কেউ ভাগ বসাবে না তার নিশ্চয়তা রাখুন । নিজেকে করুণা করবেন না । নিজের মর্যাদার পরিমাপ নিজে করতে যাবেন না । নিজের প্রতি আস্থাবান হোন । পৃথিবীতে আপনার কাছে আপনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি । আপনি যা হতে চান তাই হতে পারবেন । আপনার জন্য আপনি যতটা করতে পারবেন পৃথিবীর অন্য কেউই তা করতে পারবে না । সব কিছুই রয়েছে আপনার কাছে ।

আত্মবিশ্বাস

সন্দেহপোষণই হলো আমাদের অন্তঃশত্রু , এবং এ শত্রু কিছু করার চেষ্টা করা থেকে ভয় দেখিয়ে বিরত রেখে ভালো যে কাজে হয়তো জয়ী হতে পারতাম তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে । -উইলিয়াম শেক্সপিয়ার আব্রাহাম লিংকন একটা কাঠের কুঁড়ে ঘর থেকে শুরু করে হোয়াইট হাউজ ‘ – এ গিয়ে থেমেছেন— কারণ তিনি নিজেকে বিশ্বাস করতেন । নেপোলিয়ান একজন গরীব কর্সিকান থেকে শুরু করেন এবং পুরো অর্ধেক ইউরোপ হেঁটে বেড়িয়েছে- কারণ তিনি নিজেকে বিশ্বাস করতেন ।

হেনরি ফোর্ড একজন গরীব বালক থেকে শুরু করেন এবং পৃথিবীতে যে কোনো মানুষের চেয়ে বেশিবার পুরো বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছেন – কারণ তিনি নিজের প্রতি আস্থা রাখতেন । রকফেলার একজন গরীব বইবিক্রেতা থেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনীদের একজন হয়েছেন- কারণ তিনি নিজেকে বিশ্বাস করতেন ।

তারা যে বিশ্বাস করতেন ঠিক তাই করতেন কারণ তাদের নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন । এখন মিলিয়ন ডলারের সেই প্রশ্ন এসে যায় , আপনি যা চাইছেন তা কেন করার সিদ্ধান্ত নেবেন না ? আর তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিন এবং করে ফেলুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button